জরুরি অবস্থা ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগে ঐকমত্যে পৌঁছেছে রাজনৈতিক দলগুলো: জাতীয় ঐকমত্য কমিশন

57 / 100 SEO Score

জরুরি অবস্থা ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগে ঐকমত্যে পৌঁছেছে রাজনৈতিক দলগুলো: জাতীয় ঐকমত্য কমিশন

জরুরি অবস্থা ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগে ঐকমত্যে পৌঁছেছে রাজনৈতিক দলগুলো: জাতীয় ঐকমত্য কমিশন
জরুরি অবস্থা ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগে ঐকমত্যে পৌঁছেছে রাজনৈতিক দলগুলো: জাতীয় ঐকমত্য কমিশন

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, সংবিধানের ১৪১(ক) অনুচ্ছেদ সংশোধনের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আজকের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। আলোচনায় ‘অভ্যন্তরীণ গোলযোগ’ শব্দটি বাদ দিয়ে তার পরিবর্তে ‘রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতার প্রতি হুমকি, মহামারী বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ যুক্ত করার ব্যাপারে সব দল একমত হয়েছে।

তিনি বলেন, জরুরি অবস্থা জারির ক্ষেত্রে এখন থেকে শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর নয়, বরং মন্ত্রিসভার অনুমোদনের প্রস্তাবকে সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করা হয়েছে।

রবিবার (১৩ জুলাই) ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে আয়োজিত কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় পর্যায়ের ১২তম দিনের বৈঠকে এসব বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে ওঠে। আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।

জরুরি অবস্থাকালীন সময়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা বা তার অনুপস্থিতিতে উপনেতাকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবেও দলগুলো একমত হয়েছে।

অধ্যাপক রীয়াজ আরও জানান, জরুরি অবস্থার মধ্যেও সংবিধানের ৪৭(ক) অনুচ্ছেদের আলোকে ৩৫ অনুচ্ছেদে উল্লিখিত বিচার ও দণ্ডসংক্রান্ত মৌলিক অধিকার এবং জীবনের অধিকার খর্ব করা যাবে না।

তিনি উল্লেখ করেন, আগের আলোচনায় (৭ জুলাই) রাজনৈতিক দল ও জোটগুলো এই বিষয়েও একমত হয়েছিল যে, জরুরি অবস্থা যেন রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়।

এছাড়া সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে প্রধান বিচারপতি নিয়োগে স্বচ্ছতা ও নির্দিষ্টতা আনতে প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, যাতে রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতিকে নিয়োগ দেবেন। তবে নির্বাচনী ইশতেহারের ভিত্তিতে জনগণের ম্যান্ডেট পেলে জ্যেষ্ঠতম দুই বিচারপতির যেকোনো একজনকে নিয়োগের সুযোগ রাখা যাবে—এমন ব্যবস্থার প্রস্তাবেও দলগুলো একমত হয়। তবে কোনো বিচারপতির বিরুদ্ধে ৯৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তদন্ত চলমান থাকলে তাকে নিয়োগ দেওয়া যাবে না।

আজকের আলোচনায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টিসহ ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।