তেলের বাজারে উত্তেজনা: ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাবে দামের ওঠানামা!!!

5 / 100 SEO Score
ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাবে বাজারে বোতলজাত তেলসহ বিভিন্ন ভোজ্যতেলের দাম ওঠানামা করছে
ইরান ও ইসরায়েলের যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের প্রভাব পড়েছে দেশীয় ভোজ্যতেল বাজারেও, ছবিতে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের

ইরান ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক উত্তেজনায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়াবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত এখনো ঝুলে আছে। আর সেই অনিশ্চয়তার জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে দেখা দিয়েছে দামের ওঠানামা। শুক্রবার ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) উভয় মার্কেটেই তেলের দাম কমলেও সাপ্তাহিক হিসাবে দাম রয়ে গেছে ঊর্ধ্বমুখী।

ফিউচার মার্কেটে ব্রেন্টের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১.৮৯ ডলার কমে দাঁড়িয়েছে ৭৬.৯৬ ডলারে, যা ২.৪ শতাংশ হ্রাস নির্দেশ করে। যদিও পুরো সপ্তাহের হিসাবে এটি এখনও প্রায় ৪ শতাংশ বাড়তি রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বৃহস্পতিবার সরকারি ছুটির কারণে WTI মার্কেট স্থির থাকলেও শুক্রবার তা আবার সক্রিয় হয়। সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, ব্যারেলপ্রতি দাম ৮২ সেন্ট বা ১.১ শতাংশ বেড়ে ৭৫.৯৬ ডলারে পৌঁছায়।
অগাস্ট মাসের চুক্তির ক্ষেত্রে দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৭৩.৭৭ ডলারে, যা আগের তুলনায় ২৭ সেন্ট বা ০.৪ শতাংশ বেশি।

বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা এবং ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিক্রিয়ার খবর বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। এতে তেলের দাম তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ ইরান (ওপেকভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে) ও ইসরায়েল — কেউই এখনো এই যুদ্ধ বন্ধের আভাস দেয়নি। এর ফলে বাজারে স্থিতিশীলতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে মার্কিন অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তিনি দুই সপ্তাহ সময় নেবেন। এই ঘোষণার পরই কিছুটা পড়ে যায় ব্রেন্টের দাম।

তেলের বিশ্লেষক জন ইভানস মনে করেন, “যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, তত বেশি তেলের অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়বে। বিশ্বে চাহিদার তুলনায় মজুদ বেশি থাকলেও, প্রতিদিন আরব সাগর হয়ে যে ২ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ হয়, তা সাময়িকভাবে বন্ধ হলেই বড় প্রভাব পড়বে।”

এদিকে ইরান হুমকি দিয়েছে, পশ্চিমা চাপের জবাবে তারা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিতে পারে। এই পথটি বিশ্ব তেল বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট। এটি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক সরবরাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

রয়টার্সকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরান নিজেদের অর্থনীতি সচল রাখতে ট্যাঙ্কারে তেল বোঝাই করে চীনের উপকূলের কাছাকাছি অবস্থানে ভাসমান মজুদ তৈরি করছে।

পানমুরে লিবারামের বিশ্লেষক অ্যাশলে কেলটি বলেন, “এই যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। আর হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে দাম পৌঁছাতে পারে ১০০ ডলারে।”

তিনি আরও বলেন, “তবে এখনই তেলের দাম ৬০ ডলারে নেমে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই