বাংলাদেশ আমাদের মূল্যবান অংশীদার’: অধ্যাপক ইউনূসকে কসোভোর রাষ্ট্রদূতের অভিমত

73 / 100 SEO Score

‘বাংলাদেশ আমাদের মূল্যবান অংশীদার’: অধ্যাপক ইউনূসকে কসোভোর রাষ্ট্রদূতের অভিমত
বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকায়। বাংলাদেশে নিযুক্ত কসোভো প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাৎকালে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।

অধ্যাপক ইউনূসকে কসোভোর রাষ্ট্রদূতের অভিমত’Muhammad Yunus

অধ্যাপক ইউনূস তাঁর বক্তব্যে কসোভোর জনগণের স্বাধীনতা, শান্তি এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি অবিচল অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে ‘জুলাই অভ্যুত্থান’-এর চেতনার প্রতিফলন ঘটিয়ে আমরা স্বাধীনতা ও শান্তির পক্ষে সবসময়ই অবস্থান নিয়েছি। কসোভোর জনগণের সংগ্রাম ও স্থিতিশীলতার প্রচেষ্টাকে আমরা শ্রদ্ধার চোখে দেখি।”

কসোভো রাষ্ট্রদূতের কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা
রাষ্ট্রদূত প্লানা কসোভোকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, “আমরা বাংলাদেশকে একটি মূল্যবান অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করি। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে কসোভোর পুনর্গঠনে বাংলাদেশ যে ভূমিকা রেখেছে তা আমাদের জাতির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিশেষ করে গ্রামীণ ট্রাস্টের উদ্যোগ আমাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।”

রাষ্ট্রদূত ইউনূসের ব্যক্তিগত অবদানকেও সম্মান জানিয়ে বলেন, “আপনার ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতি ও অবদানের জন্য কসোভোর জনগণ কৃতজ্ঞ। আপনার প্রচেষ্টার ফলেই গ্রামীণ কসোভো প্রতিষ্ঠা পায় এবং আজ তা আমাদের দেশের অন্যতম বৃহৎ ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংস্থায় পরিণত হয়েছে।”

গ্রামীণ কসোভোর অবদান
১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ কসোভো বর্তমানে কসোভোর অন্যতম প্রধান ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা হিসেবে কাজ করছে। এটি দেশের ২১৯টি গ্রাম এবং ২০টি পৌরসভায় সেবা দিয়ে থাকে, যেখানে ৯৭ শতাংশ ঋণগ্রহীতা নারী। এই প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিকভাবেও নারীর ক্ষমতায়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস বলেন, “আমাদের জন্য এটা ছিল এক দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা। যখন আমরা কসোভোতে পৌঁছাই, তখন জায়গাটা ছিল একেবারেই বিধ্বস্ত। মানুষ তখনও ঘরে ফিরেনি। কোনও মুদ্রা ছিল না, কোনও ব্যাংকিং ব্যবস্থা ছিল না। আমরা একেবারে শূন্য থেকে শুরু করি এবং গ্রামীণ ব্যাংকের মডেল চালু করি।”

তিনি উল্লেখ করেন, “এই প্রকল্প শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং একটি নতুন জীবনের সুযোগ এনে দিয়েছে হাজার হাজার মানুষের জন্য।”

বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহযোগিতার প্রসার
এই বৈঠকে কসোভো-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক খাতগুলোর কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং হালকা প্রকৌশলের মতো খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।”

প্রধান উপদেষ্টা কসোভোর বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগে আগ্রহী করে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য একটি নিরাপদ ও আকর্ষণীয় পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আমরা চাই কসোভোর উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসুক এবং আমাদের অর্থনীতির অংশ হোক।”

রাষ্ট্রদূত প্লানাও উভয় দেশের ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে দুই দেশের চেম্বার অব কমার্স ও শিল্প সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির পক্ষে মত দেন।

“অধ্যাপক ইউনূসকে কসোভোর রাষ্ট্রদূতের অভিমত”

শিক্ষা ও কর্মসংস্থানেও সহযোগিতা
দুই দেশের সম্পর্ক শুধু অর্থনীতি ও বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও প্রসার ঘটানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। অধ্যাপক ইউনূস কসোভোতে বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি কসোভান বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি বৃদ্ধির জন্য বৃত্তি, ফেলোশিপ ও একাডেমিক অনুদানের ব্যবস্থার প্রস্তাব দেন।

তিনি বলেন, “যুব সমাজই ভবিষ্যৎ। দুই দেশের তরুণদের মধ্যে যদি জ্ঞান ও দক্ষতা আদান-প্রদান সম্ভব হয়, তাহলে সম্পর্ক আরও গভীর ও টেকসই হবে।”

বন্ধুত্বপূর্ণ ভবিষ্যতের আশাবাদ
এই সৌজন্য সাক্ষাৎ দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের বার্তা দিয়েছে। মানবিক সহযোগিতা, শিক্ষা, বিনিয়োগ এবং শান্তিরক্ষায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও কসোভোর সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং মানবিক স্তরেও দৃঢ় ভিত্তি পেয়েছে।
‘অধ্যাপক ইউনূসকে কসোভোর রাষ্ট্রদূতের অভিমত’

রাষ্ট্রদূতের কথায় যেমন উঠে এসেছে—“বাংলাদেশ কেবল এক বন্ধু নয়, বরং এক আদর্শ সহযোগী।”
এবং অধ্যাপক ইউনূসের মন্তব্য ছিল—“আমরা একে অপরের পাশে থেকে ভবিষ্যতের পথ তৈরি করতে পারি।”

অধ্যাপক ইউনূসকে কসোভোর রাষ্ট্রদূতের অভিমত

আরো খবর জানতে ভিজিট করুন

রমজানের আপডেট জানতে ভিজিট করুন