গাজা পরিস্থিতি তুলে ধরে মার্কিন উপদেষ্টাকে তিউনিসিয়া প্রেসিডেন্টের মানবিক বার্তা

57 / 100 SEO Score

গাজা পরিস্থিতি তুলে ধরে মার্কিন উপদেষ্টাকে তিউনিসিয়া প্রেসিডেন্টের মানবিক বার্তা

গাজা পরিস্থিতি তুলে ধরে মার্কিন উপদেষ্টাকে তিউনিসিয়া প্রেসিডেন্টের মানবিক বার্তা
গাজা পরিস্থিতি তুলে ধরে মার্কিন উপদেষ্টাকে তিউনিসিয়া প্রেসিডেন্টের মানবিক বার্তা

তিউনিসিয়া সফরে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরব, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা বিষয়ক শীর্ষ উপদেষ্টা মাসাদ বুলোস। সফরের অংশ হিসেবে দেশটির প্রেসিডেন্ট কাইস সাইদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে গাজা উপত্যকার মানবিক সংকট তুলে ধরেছেন সাইদ।

 

স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ জুলাই) মাসাদ বুলোস লিবিয়ায় তার প্রথম সরকারি সফর শুরু করেন এবং এর আগে তিনি তিউনিসিয়ায় অবস্থান করছিলেন। দেশটির রাজধানী তিউনিসের কার্থেজ প্রাসাদে প্রেসিডেন্ট সাইদের সঙ্গে সাক্ষাতে গাজার দুর্দশাগ্রস্ত শিশুদের ছবি দেখান সাইদ।

 

লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য মিডল ইস্ট আই এবং তিউনিসিয়ান সূত্র কার্থেজ জানায়, প্রেসিডেন্ট সাইদ ওই সময় মার্কিন উপদেষ্টাকে বলেন, “এখন আমি কিছু বিষয় তুলে ধরবো, যা আমাদের এবং সমগ্র মানবতাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।”

 

তিনি একটি ছবি দেখিয়ে বলেন, “এই শিশুটি ধুলোবালি খাচ্ছে, কারণ তার সামনে অন্য কিছু নেই। একবিংশ শতাব্দীতে এসে শিশুরা বালি খাচ্ছে—এটা কল্পনাতীত।” এরপর তিনি আরও একটি হাড্ডিসার শিশুর ছবি দেখিয়ে বলেন, “এই শিশুটির জীবন এখন মৃত্যুর কিনারায়। কারণ তার কাছে কোনো খাবার নেই।”

 

সাইদ বলেন, “এই চিত্রগুলো কেবল গাজারই নয়, এটি গোটা মানবতার বিরুদ্ধে এক ধরনের অপরাধ। এটি আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না।”

 

উল্লেখ্য, ভিডিওতে দেখা যায় মার্কিন উপদেষ্টা মাসাদ বুলোস নীরবভাবে মাথা নেড়ে এসব বক্তব্য শোনেন।

 

অন্যদিকে, একই দিন শতাধিক মানবাধিকার সংস্থা সতর্ক করে বলেছে যে গাজায় এখন ‘গণ দুর্ভিক্ষ’ ছড়িয়ে পড়ছে। মার্চ মাস থেকে ইসরায়েল গাজায় মানবিক সহায়তা পুরোপুরি বন্ধ করে দিলে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে।

 

পরবর্তীতে মে মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) সীমিত পরিসরে ত্রাণ কার্যক্রম চালু করে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এ সহায়তা প্রায় ২০ লাখ গাজাবাসীর জন্য একেবারেই অপ্রতুল।

 

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মানবিক সহায়তা বন্ধের পর থেকে এ পর্যন্ত শতাধিক মানুষ ক্ষুধায় মারা গেছে, যাদের মধ্যে ৮০ জনই শিশু। শুধু গত সোমবারই অপুষ্টিতে ভুগে প্রাণ হারিয়েছে ১৫টি শিশু।

 

এছাড়া, জিএইচএফ পরিচালিত ত্রাণকেন্দ্র থেকে খাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলেও জানায় দ্য মিডল ইস্ট আই।