চূড়ান্ত পর্যায়ে উপসচিব ও অতিরিক্ত সচিব পদে বহুল প্রতীক্ষিত পদোন্নতি: সিদ্ধান্ত আসছে জুলাইয়ের শেষেই

51 / 100 SEO Score

চূড়ান্ত পর্যায়ে উপসচিব ও অতিরিক্ত সচিব পদে বহুল প্রতীক্ষিত পদোন্নতি: সিদ্ধান্ত আসছে জুলাইয়ের শেষেই

সরকারি প্রশাসনে বহুদিন ধরে আটকে থাকা উপসচিব ও অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া অবশেষে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, চলতি জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহেই জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব থেকে উপসচিব এবং পরবর্তী মাসে যুগ্ম সচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড (এসএসবি) একাধিক বৈঠকে পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তাদের কর্মজীবনের নথিপত্র, শৃঙ্খলা, দুর্নীতি সংশ্লিষ্টতা ও নৈতিকতা পর্যালোচনা করেছে। এসএসবির আরও কয়েকটি বৈঠক শেষে শিগগিরই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্র মতে, প্রায় ৭০০ কর্মকর্তার তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। উপসচিব পদে চলতি মাসেই এবং অতিরিক্ত সচিব পদে পরবর্তী মাসে পদোন্নতির ঘোষণা আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

৩০তম বিসিএস: দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান

২০১২ সালের ৩ জুন চাকরিতে যোগদানকারী বিসিএস ৩০তম ব্যাচের কর্মকর্তারা ২০২২ সালেই উপসচিব পদে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করেন। কিন্তু প্রশাসনিক নানা জটিলতায় পদোন্নতি বারবার বিলম্বিত হয়। বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং অধ্যাপক ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আগমনে এ প্রক্রিয়া আরও পিছিয়ে পড়ে।

এ পর্যন্ত প্রশাসন ক্যাডারের ২৭৭ জনসহ ৩০তম ব্যাচের মোট ৩১৯ জন কর্মকর্তা এবং ডিএস পুলে থাকা অন্যান্য ক্যাডারের ২২৩ জন কর্মকর্তার তথ্য যাচাই করা হয়েছে। এদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ২৫০ থেকে ২৮০ জনকে পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে।

২০তম বিসিএস: অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির সম্ভাবনা

অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির জন্য ২০তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তারা বিবেচনায় রয়েছেন। যদিও তারা যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পান ২০২১ সালে, অতিরিক্ত সচিব হওয়ার যোগ্যতা তারা অর্জন করেন ২০২৩ সালে। এবার তাদের পদোন্নতির সম্ভাবনা অনেক বেশি বলেই মনে করা হচ্ছে।

তবে জানা গেছে, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বপালনকারী ২০তম ব্যাচের ৪৩ জন কর্মকর্তাকে প্রাথমিক তালিকা থেকে বাদ রাখা হয়েছে।

বর্তমানে অতিরিক্ত সচিবের ২১২টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩৭০ জন। যুগ্ম সচিবের ৫০২টি পদের বিপরীতে রয়েছেন ১,০৩৪ জন। উপসচিবের অনুমোদিত সংখ্যা ১,৪২০ হলেও বর্তমানে কর্মরত ১,৪০২ জন। ফলে পদোন্নতিপ্রাপ্ত অনেককেই আগের পদেই কাজ চালিয়ে যেতে হতে পারে।

পদোন্নতির নিয়ম অনুযায়ী দেরির কারণ অজানা

পদোন্নতির বিধি অনুযায়ী, উপসচিব হতে হলে কমপক্ষে ১০ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা এবং জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব হিসেবে অন্তত ৫ বছর থাকতে হয়। ৩০তম বিসিএস ব্যাচ সেই যোগ্যতা ২০২২ সালের জুনেই অর্জন করেছিল। প্রায় তিন বছর পরেও পদোন্নতি না হওয়ায় ক্ষোভ বিরাজ করছে কর্মকর্তাদের মাঝে।

এই বহুল প্রতীক্ষিত পদোন্নতি বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনে একটি দীর্ঘসূত্রতা এবং হতাশার অবসান ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।