পুরান ঢাকায় কিশোরকে পিটিয়ে হত্যাচেষ্টা, সাহসী জনতা ও পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপে রক্ষা

54 / 100 SEO Score

1752480166440

পুরান ঢাকায় কিশোরকে পিটিয়ে হত্যাচেষ্টা, সাহসী জনতা ও পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপে রক্ষা

মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে সোহাগ হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই পুরান ঢাকার ওয়ারীতে আরেকটি নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটতে যাচ্ছিল। তবে এবার সময়মতো সাধারণ মানুষ ও দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সাহসী ভূমিকার ফলে বেঁচে যায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর।

রোববার (১৩ জুলাই) রাত ৮টা ৩০ থেকে ৯টার মধ্যে রাজধানীর ওয়ারী এলাকার হাটখোলার ইলিশিয়াল ভবনের পেছনের একটি গলিতে এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, সৈয়দ রেদোয়ান মাওলানা নামের ওই কিশোরকে ঘিরে ধরে ৬–৭ জনের একটি দল বেধড়ক মারধর করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা মোটরসাইকেলের হেলমেট দিয়ে রেদোয়ানের মাথায় বারবার আঘাত করে। পরবর্তীতে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে আশপাশে থাকা ৫০–৬০ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং এক ট্রাফিক সার্জেন্ট দ্রুত এগিয়ে এসে হামলাকারীদের থামিয়ে দেন।

ঘটনার পর ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়সাল আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, ‘হামলাকারীরা নিজেদের শিক্ষার্থী বলে দাবি করেছে। আহত কিশোরও শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পূর্বপরিচয় বা কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল কি না, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে আশার বিষয় হচ্ছে—এইবার মানুষ চুপ করে থাকেনি। সবাই সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।’

ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা যায়, আটক দুই যুবককে ঘিরে স্থানীয়রা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। একজন বলেন, ‘তোদের মতো মানুষের জন্যই দেশটা দিন দিন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে।’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ‘যদি সোহাগ হত্যাকাণ্ডের সময় মানুষ এমনভাবে এগিয়ে আসত, তাহলে হয়তো সেই ছেলেটি আজ বেঁচে থাকত। এই ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে—ভয় নয়, প্রতিরোধই সমাজ রক্ষার উপায়।’