
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৬ হাজার ৬৯ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৬ হাজার ৬৯ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা ও অনুমোদন করেছে। আজ বুধবার গুলশান-২ এ অবস্থিত নগর ভবনে অনুষ্ঠিত ডিএনসিসির ৭ম কর্পোরেশন সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ বাজেট অনুমোদিত হয়। বাজেটের আয় ও ব্যয়—উভয়ই সমান, ৬,০৬৯ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নগরবাসীর টেকসই উন্নয়ন ও আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যেই এই বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।
এই বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩,৬৩৬ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৬০ শতাংশের সমান। ডিএনসিসি প্রশাসক সভায় বলেন, “রাজস্ব আদায়ের উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা নিঃসন্দেহে একটি বড় চ্যালেঞ্জ, তবে আমরা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনায় নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টি ওয়ার্ডের উন্নয়নকে বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, কারণ এই এলাকাগুলো এখনও নগর সেবা থেকে অনেকটাই বঞ্চিত।”ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৬ হাজার ৬৯ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন”
বাজেটে উন্নয়ন খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মোট বাজেটের ৭৬ শতাংশ অর্থাৎ ৪,৬২৪ কোটি টাকা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন। এই খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২,০৩২.৫০ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের প্রায় ৩৩ শতাংশ। সড়ক মেরামত, সম্প্রসারণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন, ফুটপাত সংস্কার ইত্যাদি এই বরাদ্দের আওতায় আসবে। এছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাত, যেখানে ৪৩৬.৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে, যা বাজেটের ৮ শতাংশ।”ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৬ হাজার ৬৯ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন”
মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম, যা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, সে খাতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মশক নিয়ন্ত্রণের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১৮৭.৭৫ কোটি টাকা, যা বাজেটের ৩ শতাংশ। এছাড়া ডিএনসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য পারিশ্রমিকের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২৫৭ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৪ শতাংশ।
বাজেটে আয়ের বিভিন্ন উৎসও চিহ্নিত করা হয়েছে। হোল্ডিং ট্যাক্স, পরিচ্ছন্নতা ফি, লাইটিং ফি ও স্বাস্থ্যসেবা ফি—এই চারটি খাত থেকেই মোট রাজস্ব আয়ের ৪৫ শতাংশ সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। সম্পত্তি হস্তান্তর ফি থেকে ১,০৮০ কোটি টাকা অর্থাৎ প্রায় ৩০ শতাংশ আয়ের আশা করা হচ্ছে। অবশিষ্ট অর্থ সরকারি ও বেসরকারি দাতা সংস্থা, প্রকল্প ভিত্তিক অনুদান ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, প্রতিটি ওয়ার্ডে কর্মরত “ওয়ার্ড সচিব” পদবির পরিবর্তে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। নতুন প্রস্তাবিত নামগুলো হলো “ওয়ার্ড সুপারভাইজার”, “ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটর” অথবা “ওয়ার্ড অর্গানাইজার”। নাম পরিবর্তনের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো কর্মীদের দায়িত্ব ও ভূমিকার আধুনিকায়ন এবং জনগণের সাথে তাদের কার্যকর সংযোগ স্থাপন।”ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৬ হাজার ৬৯ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন”
ডিএনসিসি প্রশাসনের ভাষ্যমতে, এবারের বাজেট পরিকল্পনায় বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নাগরিক সেবা উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ, যানজট নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে। নতুন ওয়ার্ডগুলোতে পাকা সড়ক নির্মাণ, জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন নির্মাণ, স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন এবং বিদ্যুৎবাতি স্থাপনসহ একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।”ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৬ হাজার ৬৯ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন“
এছাড়াও, ডিএনসিসি ভবিষ্যতে ডিজিটাল কর আদায় পদ্ধতি, স্মার্ট ডাস্টবিন, আধুনিক বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা এবং ই-সেবার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে নাগরিক জীবনের মানোন্নয়নের পাশাপাশি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।