“গোমতীর পানি দ্রুত বাড়ছে, ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লায় ১২৯ মিমি বৃষ্টিপাত”
টানা বৃষ্টি ও ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি হঠাৎ দ্রুতগতিতে বাড়তে শুরু করেছে। এতে নদীর দুই তীর ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, প্রতি ঘণ্টায় গোমতীর পানির উচ্চতা ১০ সেন্টিমিটার করে বাড়ছে। বুধবার (৯ জুলাই) বিকেল ৫টা পর্যন্ত পানি বিপৎসীমার ৭ ফুট নিচে থাকলেও, চরের ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি ইতোমধ্যে পানিতে ডুবে গেছে।
গত বছরের আগস্টে ভয়াবহ বন্যায় গোমতীর বাঁধ ভেঙে কুমিল্লার তিনটি উপজেলা প্লাবিত হয়। এবারও একই ভয় ফের জেগে উঠেছে স্থানীয়দের মনে।
১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড
গোমতীর পানি দ্রুত বাড়

ছে, ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লায় ১২৯ মিমি বৃষ্টিপাত
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বিকেল ৩টা থেকে বুধবার (৯ জুলাই) বিকেল ৩টা পর্যন্ত কুমিল্লায় ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারী বর্ষণে শহরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
নদীর পাড়ে বাড়ছে পানি, আতঙ্কে মানুষ
বুধবার দুপুরে গোমতী নদীর টিক্কার চর, চানপুর ব্রিজ ও সংরাইশ এলাকায় দেখা গেছে— অনেক চরাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। সংরাইশ এলাকার বাসিন্দা নূরে আলম বলেন,
“সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি পানি আমাদের ঘরের একদম পাশে চলে এসেছে। গত বছরের মতো আবার যদি ঘর ভেসে যায়, তাহলে আর কোথায় যাব?”
টিক্কার চর এলাকার পারভেজ আলম জানান, “গতকাল বিকেলেও এত পানি ছিল না। কিন্তু আজ সকালে উঠে দেখি পানি অনেক বেড়েছে। এভাবে বাড়তে থাকলে বিপৎসীমা অতিক্রম করে ফেলতে পারে।”
প্রশাসনের সতর্কতা ও প্রস্তুতি
বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভির আহমেদ জানান,
“গোমতীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে থাকলেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। চরে বসবাসরতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসন পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,
“হঠাৎ পানি এভাবে বাড়বে, তা আমরা আগাম বুঝতে পারিনি। তবে পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে।”
রমজানে কয় দিন বাকী জানে এখানে ক্লিক করুন
ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস ও পানির পর্যবেক্ষণ
কুমিল্লা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবারও সারাদিন ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একইসাথে ভারতের ত্রিপুরা অঞ্চলেও ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় পানি বৃদ্ধির গতি আরও বাড়তে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খাঁন মোহাম্মদ ওয়ালীউজ্জামান বলেন,
“বুধবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত গোমতীর পানি ৮.৫ মিটার পর্যন্ত উঠেছে। বিপৎসীমা ১১.৩ মিটার। প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ১০ সেন্টিমিটার হারে পানি বাড়ছে। আমাদের সবকিছুই এখন বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করছে।”