“ফেনীতে ফের ভয়াবহ বন্যা: বাঁধ ভেঙেছে ২০টি স্থানে, ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি”
ফেনীতে ফের ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ফুলগাজী ও পরশুরামে মুহুরী, কহুয়া ও ছিলোনিয়া নদীর ২০টি স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে গেছে। এর ফলে অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং ৩০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
বুধবার (৯ জুলাই) বিকেলে ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা আলী আশরাফ জানান,
“বিকেল থেকে পানি বাঁধের উপর দিয়ে গড়াচ্ছিল। সবাই মিলে বস্তা ফেলে রোধ করার চেষ্টা করছিলাম। সন্ধ্যায় হঠাৎই বাঁধ ভেঙে পানি ঘরে ঢুকে পড়ে। চোখের সামনে নতুন ঘরটা ভেসে গেল, কিছুই করতে পারিনি।”

বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার অবস্থা
ফেনীর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় ১৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টি কিছুটা কমলেও বুধবার দিনভর গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হয়েছে। ফেনী সদর, দাগনভূঞা ও ছাগলনাইয়ার নিম্নাঞ্চলে এখনো জলাবদ্ধতা বিরাজ করছে। শহরের অনেক রাস্তাঘাট হাঁটু পানিতে ডুবে আছে, শহিদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়ক এখনো পানির নিচে।
বাঁধ ভাঙন ও প্লাবিত এলাকা
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী,
-
পরশুরাম উপজেলায় ১৪টি স্থানে
-
ফুলগাজী উপজেলায় ৬টি স্থানে
বাঁধ ভেঙে গেছে।
পরশুরামে ১৫টি গ্রাম এবং ফুলগাজীতে ১২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামের পুকুরের মাছ ভেসে গেছে, আমনের বীজতলা ও সবজি ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন রয়েছে অনেক এলাকায়।
মানুষের দুর্ভোগ ও ক্ষতির বিবরণ
পরশুরামের পশ্চিম অলকা গ্রামের আবুল হাসেম বলেন,
“২০২৪ সালের বন্যার ক্ষতি এখনো সামলে উঠতে পারিনি। আবারও পানি এসে সব তছনছ করে দিল। পুকুরের মাছ, ঘরের বীজতলা সব গেল। স্থায়ী বাঁধ না হলে এভাবেই বারবার সর্বস্ব হারাতে হবে।”

প্রশাসনের প্রস্তুতি ও ত্রাণ কার্যক্রম
জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম জানান,
-
ফুলগাজী, পরশুরাম ও ফেনী সদরের একাংশে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি
-
১,৫০০ মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে
-
প্রস্তুত রাখা হয়েছে মোট ১৫৩টি আশ্রয় কেন্দ্র
-
জেলায় ২,৫৩৭ জন প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত
-
বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৭.৫ লাখ টাকা ও ১২০ মেট্রিক টন চাল
-
সরবরাহ করা হয়েছে ৪০০ প্যাকেট শুকনো খাবার
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তার হোসেন মজুমদার বলেন,
“মুহুরী ও কহুয়া নদীর বাঁধ ভেঙে পানি লোকালয়ে ঢুকছে। নদীর পানি একটু একটু করে কমলেও, বাঁধ ভেঙে পড়ায় দুর্ভোগ বাড়ছে।”
রমজানের কয়দিন বাকী জনতে এখানে ক্লিক করুন
ফেনীতে ফের ভয়াবহ বন্যা: বাঁধ ভেঙেছে ২০টি স্থানে, ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি
পূর্বের অভিজ্ঞতা, ভবিষ্যতের শঙ্কা
২০২৪ সালের আগস্টে ভয়াবহ বন্যায় ফেনীতে ২৯ জনের মৃত্যু ও হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়। প্রশাসন বহুবার স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি—যা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে স্থানীয়দের মাঝে।